৭০ শতাংশ রেস্তোরাঁ এখনো ভ্যাটের আওতার বাইরে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। সংগঠনটির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, দেশে ৪ লাখ ৮২ হাজার রেস্তোরাঁ থাকলেও ৭০ শতাংশ রেস্তোরাঁ ভ্যাট দেয় না। তারা ভ্যাটের নিবন্ধনও নেয়নি। আর তাদের সমিতিতে ৬০ হাজারের মতো সদস্য রয়েছে। অথচ সরকার তাদেরকে ভ্যাটের আওতায় না এনে ভ্যাটের হার বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে।
গতকাল সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি। সেখানে হোটেল-রেস্তোরাঁয় ভ্যাটের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়। এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে অনির্দিষ্টকালের জন্য রেস্তোরাঁ বন্ধেরও হুমকি দিয়েছে মালিক পক্ষ।
ইমরান হাসান বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দিয়ে সরকার ঘাটতি মেটাতে পারে। আইএমএফের শর্ত মানতে গিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো দেশের জনগণের ওপর ইচ্ছেমতো করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া কোনো পূর্ণাঙ্গ সমাধান হতে পারে না।’
ভ্যাটের হার বৃদ্ধির বিষয়ে সমালোচনা উঠলে এনবিআর থেকে জানানো হয়, যেসব পণ্য ও সেবায় ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও আবগারি শুল্ক বৃদ্ধি করা হচ্ছে তার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নেই বিধায় সর্বসাধারণের ভোগ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে না এবং মূল্যস্ফীতিতেও প্রভাব পড়বে না। জনস্বার্থে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির শুল্ক কর হারে ব্যাপক ছাড় দেয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি, এসডিজি বাস্তবায়ন এবং জাতি হিসেবে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে ভ্যাটের আওতা বৃদ্ধি ও হার যৌক্তিকীকরণের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সংগঠনটির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, ‘রেস্তোরাঁ ব্যবসার ওপর ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এছাড়া সম্পূরক শুল্ক (এসডি) নামে আরো একটি ১০ শতাংশ কর আগে থেকেই আছে। অর্থাৎ ভ্যাট ১৫ শতাংশ ও সম্পূরক শুল্ক (এসডি) ১০ শতাংশ যোগ করা হলে ভোক্তাদের মোট ২৫ শতাংশ কর দিতে হবে। গুলশান ও বনানীর মানুষেরা এ ভ্যাট দিতে পারেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের পক্ষে এটা দেয়া সম্ভব নয়, বিষয়টি অবাস্তব। পৃথিবীর কোথাও খাবারে এত ভ্যাট নেই।